পানিতে ফেলে দুই সন্তানকে হত্যা
দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে নিখোঁজের নাটক সাজান বাবা
- আপলোড সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০৬:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০৬:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন
দিরাই প্রতিনিধি ::
হাওরের পানিতে ফেলে দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে দিরাইয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হাওর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে। আটক করা হয়েছে তাদের বাবাকে। পুলিশ বলছে, সন্তানদের দুষ্টুমিকে কেন্দ্র করে বউ-শাশুড়ির বিভেদ-ঝগড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে ওই ব্যক্তি সন্তানদের হাওরে ফেলে হত্যা করে নিখোঁজের নাটক সাজান।
সন্তানদের হত্যার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক কামরুল ইসলামের (৩০) বাড়ি দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আব্দুল কাদিরের পুত্র। পুলিশ বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। কামরুল সন্তানদের হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এই দুই শিশু হলো মুহাদ্দিস (৭) ও তুলনা (৪)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কামরুলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকায় ফেরি করে জিনিসপত্র বিক্রি করতেন।
বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরের গোবিন্দপুর এলাকায় মুহাদ্দিসের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে একই হাওরের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকায় হাওরের পানিতে তুলনার লাশ ভাসতে দেখে খবর পেয়ে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে দিরাই থানা পুলিশ পেরুয়া গ্রামে গিয়ে কামরুল ইসলামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। এ সময় তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তিনি পুলিশের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
আটক কামরুলের বরাত দিয়ে দিরাই থানা পুলিশ জানায়, তার চার সন্তান। সন্তানেরা বাড়িতে দুষ্টুমি করলে মা আফরোজা বেগম তাদের মারধর করেন। এ নিয়ে কামরুলের মা ফুলজান বিবির সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হয় আফরোজার। গত শুক্রবার সকালে বাচ্চাদের দুষ্টুমি ও মারধরের ঘটনা নিয়ে বউ-শাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া হয়। কামরুল জুমার নামাজ শেষে বাড়িতে আসার পর ফুলজান বিবি জানান আফরোজা তাকে মারধর করেছেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় তার। এরপর কামরুল আফরোজাকে ভাত দিতে বললে তিনি গালাগাল করেন। এতে কামরুল চরম ক্ষুব্ধ হন। এরপর বিকেলে কাউকে না জানিয়ে মুহাদ্দিস ও তুলনাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। দিরাই শহরে এসে সেখান থেকে চলে যান সিলেটে।
পুলিশ আরও জানায়, সিলেটে দুই দিন থেকে গত রোববার বাচ্চাদের নিয়ে সুনামগঞ্জে আসার পথে গাড়িতে তাদের ঘুমের ওষুধ খাওয়ান কামরুল। সন্ধ্যায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার বরকাপন এলাকায় এসে গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে তুলনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হাওরে ফেলে দেন। এরপর সেখান থেকে মুহাদ্দিসকে নিয়ে আসেন সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায়। এখানে হাওরে ফেলে দেন মুহাদ্দিসকে। রাতে বাড়িতে গিয়ে কামরুল এলাকার প্রচার করেন তার দুই সন্তানকে পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় জিডিও করেন তিনি। স্থানীয় লোকজন তখন দুই শিশুর সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে প্রচার করেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল তার দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কামরুলকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার জানান, দুই দিনে দুটি স্থান থেকে দুটি শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দিরাই থানায় দায়ের করা নিখোঁজ সংবাদের সূত্র ধরে অভিযুক্ত পিতাকে হেফাজতে নেওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে দুই অবুঝ সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা ফুলজান নেছা ও পরিবারের সদস্যরা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দিরাই প্রতিনিধি